* সামাজিক প্রতিক্রিয়া
* ভিসির বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান
* যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা
* ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষার্থী আটক
* ঢাবি কর্তৃপক্ষের দুঃখ প্রকাশ, ন্যায়বিচারের আশ্বাস
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চোর সন্দেহে আটক তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়
কেউ অপরাধী হলে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। এটার ক্ষেত্রে আপনারাও (গণমাধ্যম) একটু আমাদের সাথে কাজ করতে পারেন। জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ইনোসেন্ট লোক যেন কোনো অবস্থাতেই হেনস্তা না হয়
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে আটক তোফাজ্জল নামে এক যুবককে পিটিয়ে ভাত খেতে দেওয়া হয়। এরপর আবারো মারধর করা হয়। এক পর্যায়ে তোফাজ্জলের মৃত্যু হয়।
প্রথম দফায় পেটানোর পর তোফাজ্জলকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে গিয়ে খেতে দেওয়া হয়। শিক্ষার্থীরা তখন তার খাবারের ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করেন, যেখানে বলা হয়েছিলÑ হলের খাবারের স্বাদ তার ভালো লেগেছে। কিন্তু এই পরিস্থিতি খুব দ্রুত বদলে যায়।
রাত ১০টার দিকে হলের হাউস টিউটররা ঘটনাস্থলে যান। তারপর রাত ১২টার দিকে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান কয়েকজন শিক্ষার্থী। পরে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করলে ওই শিক্ষার্থীরা সেখান থেকে রেখেই সরে যান।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, তোফাজ্জলকে নির্মম নির্যাতন করে শরীর থেকে মাংস খুলে নেয় নির্যাতনকারীরা।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন শিক্ষার্থীর কাছ থেকে এসব তথ্য জানা যায়। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে একজন সন্দেহভাজনকে চিহ্নিত করা গেছে। তিনি হলেন হল ছাত্রলীগের সদ্য পদত্যাগকারী উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক জালাল আহমেদ।
হল সূত্রে জানা যায়, মোবাইল চুরিকে কেন্দ্র করে ঘটে এ ঘটনা। দুপুরে হলের মাঠে শিক্ষার্থীদের ক্রিকেট খেলা চলাকালীন ৬টা মোবাইল চুরি হয়। পরে রাত ৮টার দিকে তোফাজ্জল হলে ঢুকলে তাকে ধরে ফেলেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের ধারণা তিনিই চুরি করেছেন মোবাইল।
তাকে অতিথিকক্ষে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ এবং মারধর করেন শিক্ষার্থীদের কয়েকজন। এরপর তাকে খাওয়া-দাওয়া করিয়ে আবারও অতিথিকক্ষে নেওয়া হয়। সেখানেই মূলত তাকে নির্যাতন করে ঢাকা মেডিকেলে পাঠানো হয়।
শিক্ষার্থীদের মতে, তোফাজ্জল কয়েকজনের ফোন নম্বর মুখস্থ বলে দেন, যা পরে সত্যতা যাচাই করে নিশ্চিত হয়। কিন্তু, এই তথ্যের ভিত্তিতে শিক্ষার্থীদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়, তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়।
প্রথম দফায় মারধরের পর তোফাজ্জলকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তাকে খেতে দেওয়া হয়। ফেসবুকে তার খাবার খাওয়ার ছবি পোস্ট করে শিক্ষার্থীরা দাবি করে, হলের খাবারের স্বাদ তোফাজ্জলের ভালো লেগেছে। তবে, এই হাস্যরসাত্মক পরিস্থিতি দ্রুতই সহিংসতায় রূপ নেয়।
রাত ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা আবারও তোফাজ্জলকে জেরা করতে শুরু করে। জেরার একপর্যায়ে দ্বিতীয় দফায় গণপিটুনি শুরু হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, এই মারধরের সময়ই তোফাজ্জলের শারীরিক অবস্থা খারাপ হতে থাকে। রাত ১২টার দিকে ফজলুল হক হলের হাউস টিউটররা ঘটনাস্থলে পৌঁছান এবং তার অবস্থা গুরুতর দেখে দ্রুত তাকে প্রক্টরিয়াল মোবাইল টিমের কাছে হস্তান্তর করার পর টিমের সদস্যরা তোফাজ্জলকে হাসপাতালের পরিবর্তে প্রথমে শাহবাগ থানায় নিয়ে যান। এরপর পুলিশের পরামর্শে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে তোফাজ্জলকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
শিক্ষার্থীরা জানান, সেখান থেকে তাকে মেইন বিল্ডিংয়ের গেস্ট রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাউজ টিউটররা তাকে প্রক্টোরিয়াল টিম ডেকে তুলে দিতে বলেন। কিন্তু তাদের কথা না শুনেই বরং শিক্ষকদেরই সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ঘটনা জানিয়ে আরেক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, এত মারলে কেউ বাঁচতে পারে না। তার মাংসগুলো পড়ে গেছে। গোপনাঙ্গেও প্রচুর আঘাত করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী তোফাজ্জল রাত পৌনে ১টার দিকে মারা যান।
ফজলুল হক মুসলিম হলের একজন কর্মকর্তা বলেন, হলে শিক্ষার্থীদের খেলা চলার সময় কয়েকজনের মোবাইল ফোন চুরি হয়। শিক্ষার্থীরা তোফাজ্জলকে চোর সন্দেহে আটক করে বেধড়ক মারধর করে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, রাত পৌনে ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা তাকে আনেন। আমরা তাকে আগে হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলি।
তোফাজ্জলের বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কাঁঠাল তলি ইউনিয়নে। তার পরিবারে মা-বাবা কেউ জীবিত নেই। জানা যায়, তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন ছিলেন এবং ঢাকায় ভাসমান অবস্থায় দিন কাটাচ্ছিলেন। কিছুদিন আগে তিনি ঢাকায় আসেন এবং অসংলগ্ন আচরণ করছিলেন বলে তার পরিবার ও স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, কেউ চুরি করতে এলে তাকে পিটিয়ে মেরে ফেলার অধিকার কারও নেই। এ ধরনের ঘটনা মর্মান্তিক। আমরা সিসিটিভি ফুটেজ এবং অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করছি এবং যারা এতে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের অতিথিকক্ষে তোফাজ্জল নামের এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে এ ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিতের কথাও জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দফতর থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বুধবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলে সংঘটিত অমানবিক ও অনাকাক্সিক্ষত ঘটনাটির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুঃখিত ও মর্মাহত। এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দ্রুততার সঙ্গে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিয়েছে। প্রক্টরিয়াল টিম বিষয়টি জানার পরই ঘটনাস্থল ও হাসপাতাল পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছে।
এ বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এই কমিটি দ্রুত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করেছে। সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
হত্যার ঘটনায় জড়িতদের পরিচয় মিলেছে
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেন (৩০) নামে এক ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের নাম-পরিচয় পাওয়া গেছে। প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষার্থীদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ছাত্রলীগের কয়েকজন কর্মীও রয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানান, তোফাজ্জলকে পিটিয়ে হত্যায় জড়িতদের মধ্যে ফজলুল হক হল ছাত্রলীগের সাবেক উপ- বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক জালাল আহমেদ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের রাশেদ কামাল, আব্দুস সামাদ, প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের সুলতান, গণিত বিভাগের রাব্বি, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের ফিরোজ এবং মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের সুমন ও সাকলাইনসহ কয়েকজন রয়েছেন। এদের সবাই ঢাবির বিভিন্ন সেশনের শিক্ষার্থী।
সামাজিক প্রতিক্রিয়া
ঘটনাটি সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই গণপিটুনির ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্রবণতাকে সমাজের জন্য বিপজ্জনক বলে মন্তব্য করেছেন। বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছে।
কয়েকজন শিক্ষার্থী ঘটনাটি সম্পর্কে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। একজন বলেন, আমরা কখনো ভাবিনি যে এমন ঘটনা ঘটবে। তাকে শাস্তি দেওয়া উচিত ছিল, কিন্তু হত্যা কোনো সমাধান নয়।
আরেকজন শিক্ষার্থী মন্তব্য করেন, আমরা যদি মনে করি কেউ অপরাধ করেছে, তবে সেটা আইন অনুযায়ী বিচার করা উচিত। নিজ হাতে আইন তুলে নেওয়া সঠিক পথ নয়।
ভিসির বাসভবনের সামনে শিক্ষার্থীদের অবস্থান
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হয়ে তোফাজ্জল নামে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান নেন একদল শিক্ষার্থী। এসময় জড়িতদের গ্রেফতারের আগ পর্যন্ত সেখানে অবস্থান করবেন বলে জানান তারা।
গতকাল বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনে অবস্থান গ্রহণ করেন। এর আগে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা রাজু ভাস্কর্যের সামনে ‘ইৎরহম ইধপশ ঔঁংঃরপব’ শিরোনামে এক প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে নাফিউর রহমান বলেন, আমরা স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য জুলাই মাসে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছি। আজকে যদি এই অপরাধীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনা না হয় তাহলে আমদের বিপ্লব ব্যর্থ হবে। আমরা আমাদের বিপ্লবকে ব্যর্থ হতে দিতে পারি না। আজকে রাত হবে, কাল সকাল হবে তবুও যদি তাদের গ্রেপ্তার করা না হয় আমরা অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরে দাঁড়াব না।
এক নারী শিক্ষার্থী বলেন, সারারাত হল প্রশাসন কি করেছে? একজন ভারসাম্যহীন ব্যক্তিকে ৫/৬ ঘণ্টা পেটানো হলো, প্রশাসন কি করছিল? আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে বিচার দাবি করছি। তাদেরকে গ্রেপ্তার করার আগে আমরা অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাব।
এর আগে সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক লুতফুর রহমান বলেন, ঢাবিতে এমন হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা প্রতিবাদ জানাই। এদেশে মব জাস্টিস বন্ধ করতে অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বন জানাই। আমরা ছাত্রসমাজ বিচারহীন হত্যাকাণ্ডকে কোনোভাবেই সমর্থন করি না, এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এমন অনিরাপদ বাংলাদেশের জন্য এই স্বাধীনতা চায়নি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় মামলা
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ফজলুল হক মুসলিম হলে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শাহবাগ থানায় অভিযোগটি করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট অফিসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ আমানুল্লাহ?
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন।
মামলার এজাহারে মোহাম্মদ আমানুল্লাহ উল্লেখ করেন, ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৮টার সময় একজন যুবক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক মুসলিম হলের গেটে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র তাকে আটক করে প্রথমে ফজলুল হক মুসলিম হলের মূল ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে যান। মোবাইল চুরির অভিযোগ করে তারা ওই যুবককে এলোপাতাড়ি চর-থাপ্পড় ও কিলঘুষি মারেন। জিজ্ঞাসা ওই যুবক তার নাম তোফাজ্জল বলে জানান। পরে তিনি মানসিক রোগী বুঝতে পেরে তাকে হলের ক্যান্টিনে নিয়ে খাবার খাওয়ান। এরপর তাকে হলের দক্ষিণ ভবনের গেস্ট রুমে নিয়ে জানালার সঙ্গে হাত বেঁধে স্ট্যাম্প, হকিস্টিক ও লাঠি দিয়ে উচ্ছৃঙ্খল কিছু ছাত্র বেধরক মারধর করলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।
পরে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন আবাসিক শিক্ষককে জানানো হয়। তাদের সহায়তায় অচেতন ওই যুবককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দিবাগত রাত পৌনে ১টার সময় তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে এজাহার দায়ের করায় সামান্য বিলম্ব হয়েছে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম সাহাবুদ্দিন শাহীন বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এজাহার দিয়েছেন। এজাহারটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩ শিক্ষার্থী আটক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চোর সন্দেহে তোফাজ্জল হোসেনকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ৩ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। তাদের রাজধানীর শাহবাগ থানায় নেওয়া হয়েছে।
আটকদের মধ্যে ছাত্রলীগের একজন সাবেক নেতাও আছেন। তার নাম জালাল আহমেদ। তিনি ছাত্রলীগের উপ-বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ছিলেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মসূচি শুরুর পর তিনি ছাত্রলীগ থেকে পদত্যাগ করেন।
বুধবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় তোফাজ্জলকে। একই রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও পিটিয়ে হত্যা করা হয় ছাত্রলীগের এক নেতাকে।
এসব বিষয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, মব জাস্টিসের ক্ষেত্রে জনসচেতনতাটা বাড়াতে হবে। কালকে জাহাঙ্গীরনগরে দেখলাম...তারা তো সবচেয়ে শিক্ষিত। তাদের ক্ষেত্রে তো এই সচেতনতা আসতে হবে। একজন অন্যায় করলে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করেন। আইন হাতে তুলে নেওয়ার অধিকার কারো নেই।
উপদেষ্টা আরও বলেন, কেউ অপরাধী হলে তাকে আইনের হাতে সোপর্দ করতে হবে। এটার ক্ষেত্রে আপনারাও (গণমাধ্যম) একটু আমাদের সাথে কাজ করতে পারেন। জনসচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। ইনোসেন্ট লোক যেন কোনো অবস্থাতেই হেনস্তা না হয়।